স্বজনদের অপেক্ষার অবসান, পদ্মায় মিলল নিখোঁজ যুবকের মরদেহ
লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:-পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার গাওগোয়াইন গ্রামের বাসিন্দা মো. মেহেদি হাসান (৩১)। তিনি ওই গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিন মালিথার ছেলে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৩টার দিকে মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মো. ইলিয়াস জানান, মাওয়া চৌরাস্তা থেকে পশ্চিম পাশে পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে নৌ পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গত ২৫ মে ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন মেহেদি হাসান। ওই দিন রাতে পরিবারের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার সময় তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি আরিচা ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
দীর্ঘ কয়েকদিনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর মরদেহ উদ্ধারের খবরে নিহতের স্বজনরা ঈশ্বরদী থেকে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং মরদেহ শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে। ফলে অন্য কোনো আলামত বা আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পদ্মা নদী থেকে মেহেদি হাসানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।