প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ, বিদ্যালয় পরিচালনা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর দেওয়ান আব্দুল মান্নান পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান শিকদারের বিরুদ্ধে ভরণ-পোষণ না দেয়া, পারিবারিক নির্যাতন এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী মোসা. জেবুন নাহার হীরা। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
জেবুন নাহার হীরা বলেন, বিয়ের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দুই সন্তানের ভরণ-পোষণ দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, বিচার পাওয়ার আশায় জেলা প্রশাসন, আদালত ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিকার পাননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেয়া হয়। পরে ওই অর্থ ফেরত চাইলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়ে অভিযোগকারী দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। তিনি আদালতে আইন পেশায়ও যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন হীরা। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, “২০১৩ সাল থেকে শাহজাহান শিকদার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বিদ্যালয়ে আসেন এবং বাইরে কোনো কাজে গেলে আমাকে অবহিত করেন।” তবে তিনি মাসিক উপস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “শাহজাহান শিকদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয় সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের কথা শুনেছি। তবে আমি দুইবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে তাকে উপস্থিত পেয়েছি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “তার স্ত্রী আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। পারিবারিক বিষয় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব বিষয়। আর একজন প্রধান শিক্ষক বছরে কতদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন, তা জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষে নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের অভিযোগ অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পারিবারিক বিষয়কে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমি আইনগতভাবে বিষয়টির মোকাবিলা করব।”
এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং উত্থাপিত অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।