মুন্সীগঞ্জে আলোচিত আরিফ হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফ হোসেনের ছোট ভাই আকাশ বেপারী কসাই কাজের সুবাদে মাংস বিক্রির প্রায় ৪৯ হাজার টাকা পেতেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার নুর মোহাম্মদের কাছে। পাওনা টাকা নিয়ে গত ১৩ জুন সকালে মুন্সীগঞ্জের মুন্সীরহাট এলাকায় আরিফ ও আকাশের সঙ্গে নুর মোহাম্মদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও বিরোধের অবসান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় আরিফকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।
পরদিন ১৪ জুন ভোরে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জসিমনগর এলাকায় একটি অনাবাদি জমি থেকে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করে। পরে ১৬ জুন মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা অনুসন্ধানের মাধ্যমে ১৭ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকা থেকে প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি অন্যান্য আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার বাকি তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।