নিজস্ব প্রতিবেদন
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের দিঘীরপাড় বাজারসংলগ্ন নদীর ওপারে চরাঞ্চলের কান্দারবাড়ীতে ট্রলার, বালুবাহী গেটবোট ও নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নদীর পাড়ে নৌযান রাখলেই স্থানীয় এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
মাঝিদের অভিযোগ, আব্দুল মান্নান খানের ছেলে রিয়াদ খান ৪ থেকে ৫ জন নেশাগ্রস্ত কিশোরকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন। তারা জানান, নদীর পাড়ে বালগেট, মাঝারি ট্রলার কিংবা নৌকা রাখলেই এই টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, চাঁদা আদায়ের সময় রিয়াদ খান দাবি করেন, তিনি চরের সরকারি ডাক (ইজারা) নিয়েছেন। তাই তিনি ওই এলাকা থেকে অর্থ আদায় করছেন। তবে মাঝিদের দাবি, ওই চরে সরকারি কোনো ডাক (ইজারা) নেই। অতীতে নদীর পাড়ে নৌযান রাখার জন্য কখনো কোনো অর্থও দিতে হয়নি।
স্থানীয় মাঝিদের অভিযোগ, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই এভাবে চাঁদা আদায় শুরু হয়। একবার টাকা দেওয়ার পরও নৌযান নদীর পাড়ে অবস্থান করলে পরদিন আবার নতুন করে টাকা দাবি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রলার-মাঝি বলেন, “আমরা তার ভয়ে থাকি। চাঁদা না দিলে ট্রলার থেকে ব্যাটারি কিংবা অন্য জিনিসপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকি। তাই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে থাকি।”
আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রিয়াদ খান বলেন, “আমার বাবা দিঘীরপাড় ঘাটসহ আশপাশের এলাকার ইজারা নিয়েছি। তাই সেখান থেকে রাজস্ব আদায় করছি। তবে থেমে থাকা বা নোঙর করা নৌযান থেকে আমরা টাকা তুলি না। ঘাটে ভিড়লে টাকা নেই। একবার টাকা দিলে তারা ২-৩ দিন নৌযান রাখতে পারে।”