টঙ্গিবাড়ীতে এসিল্যান্ড না থাকায় স্থবির ভূমিসেবা কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সেবাপ্রত্যাশীরা
টঙ্গিবাড়ী প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে সহকারী কমিশনার (ভূমি)—এসিল্যান্ড পদে কর্মকর্তা না থাকায় ভূমিসেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। এতে নামজারি, জমাখারিজ, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবেদন যাচাই-বাছাই, শুনানি ও নিষ্পত্তির সঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দায়িত্ব সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে পদটি শূন্য থাকায় কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত না থাকলে বিভিন্ন আবেদন নিষ্পত্তিতে সময় বেড়ে যাচ্ছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের একাধিকবার ভূমি অফিসে আসতে হচ্ছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, হালনাগাদ খতিয়ান, ই-মিউটেশনের মাধ্যমে নামজারি ও জমাখারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, রেন্ট সার্টিফিকেট মামলা এবং মিসকেস নিষ্পত্তিসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা এই অফিসের মাধ্যমে দেওয়া হয়। এসব সেবার ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার সুযোগে ভূমি অফিসের আশপাশে কথিত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বেড়েছে। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “সরকারি নিয়মে যে কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হওয়ার কথা, সেটির জন্যও অনেক সময় অফিসে বারবার আসতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সেবা পাওয়ার আশায় কেউ কেউ দালালের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একজন নিয়মিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়োগ অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিসেবার নির্ধারিত সময়, সরকারি ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা এবং দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সেবাপ্রত্যাশীদের মতে, ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং সরকারি ভূমিসেবা আরও গতিশীল হবে।