মেধাবৃত্তি পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর , বৃক্ষরোপণ করবে ২৮'শ শিক্ষার্থী
বিশেষ প্রতিনিধি, মুন্সিগঞ্জ
কেবল বইয়ের পাতায় মেধার বিকাশ নয়, শিক্ষার্থীদের মনে পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মুন্সিগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিক্রমপুর মানব সেবা ফাউন্ডেশন’।
সংগঠনটির আয়োজনে আগামী ১৪ নভেম্বর শনিবার বেলা ১১টায় মুন্সিগঞ্জ জুড়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মেধাবৃত্তি-২০২৬’। জেলাজুড়ে আয়োজিত পঞ্চমবারের এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ হাজার ৮৫ ৯ জন শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যতিক্রমী এই মেধাবৃত্তি পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০০ নম্বরের ওপর। এর মধ্যে ৯০ নম্বর থাকবে লিখিত বহুনির্বাচনী (MCQ) পরীক্ষায়—যেখানে স্থান পাচ্ছে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, তথ্যপ্রযুক্তি ও সাধারণ জ্ঞান। তবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাকি ১০ নম্বর, যা সরাসরি বরাদ্দ রাখা হয়েছে পরিবেশ সচেতনতামূলক কাজ অর্থাৎ ‘বৃক্ষরোপণ’-এর জন্য। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজ হাতে বৃক্ষরোপণ করে এই ১০ নম্বর অর্জন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকেরা। তাদের মতে, প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে এসে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে পরিবেশপ্রেমী করে তুলতে এমন উদ্যোগ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৪ নভেম্বর জেলার ছয়টি উপজেলায় একযোগে নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে উপজেলাভিত্তিক কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এরমধ্যে সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৬০৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ সদরের আলবার্ট ভিক্টোরিয়া যতীন্দ্র মোহন সরকারি গার্লস হাই স্কুল (এভিজিএম) কেন্দ্রে ৫৮৪ জন, শ্রীনগরের হাসাড়া কালীকিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৫১৯ জন, টংগিবাড়ীর বেতকা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৫৩ জন, গজারিয়ার গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে ৪১০ জন এবং লৌহজং উপজেলার হলদিয়া সরকারি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৮৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে।
এবারের মেধাবৃত্তিতে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। মোট ২ হাজার ৮৫৯ জন আবেদনকারীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ১ হাজার ৯৮৭ জন এবং পুরুষ শিক্ষার্থী ৮৬৭ জন।
সংগঠনটির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক হিরা বলেন, “আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জের শিক্ষা কার্যক্রমকে প্রযুক্তিবান্ধব ও যুগোপযোগী করে তোলাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। নিবন্ধন, প্রবেশপত্র সংগ্রহ, আসন বিন্যাস থেকে শুরু করে ফলাফলসহ সব তথ্য শিক্ষার্থীরা আমাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.manabseba.org) থেকে সহজে দেখতে পাচ্ছে।
তবে আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থাকুক। তাদের মধ্যে পরিবেশপ্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতেই বৃক্ষরোপণে বিশেষ ১০ নম্বর যুক্ত করা হয়েছে।”
সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিবেশ উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর।