
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। নিজস্ব বাড়িঘর ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ সরকারি ঘর বরাদ্দ নিয়ে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অন্যদিকে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো আবাসনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, বেতকা ইউনিয়নের দীপাড়া এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩টিতে পরিবার বসবাস করছে। বাকি ৩টি ঘর তালাবদ্ধ। দক্ষিণ রায়পুরা এলাকায় ২৮টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১৩টিতে বসবাস করছেন উপকারভোগীরা। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশ তালাবদ্ধ। কিছু ঘরে কাঠ-লাকড়ি রাখা হয়েছে, আবার কিছু ঘর পড়ে রয়েছে খালি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সচ্ছল ব্যক্তিদেরও ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ অনেক প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবার এখনো আবাসনের সংকটে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘরের বরাদ্দ ও বর্তমান দখল পরিস্থিতি তদন্ত করে অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি খালি ও তালাবদ্ধ ঘরগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বেতকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া বলেন, “এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।