
টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন লিখন খান। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কেন্দ্র করে তার অনুসারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন লিখন খান। দিঘীরপাড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি টঙ্গীবাড়ী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
রাজনৈতিক সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৭ বছর ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন লিখন খান। দীর্ঘ এই সময়ে বিভিন্ন মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি তার সমর্থকদের। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে বাড়িছাড়া হয়ে দীর্ঘ সময় পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে বলে তারা জানান।
তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের সময়ও তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেন লিখন খান—এমন দাবি তার ঘনিষ্ঠদের। তাদের ভাষ্য, ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সুখে-দুঃখে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
লিখন খানের সমর্থকেরা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তির ইতিবাচক দিক হিসেবে আরও কিছু বিষয় তুলে ধরছেন। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অর্থ আদায়, অন্যের সম্পত্তি দখল কিংবা কাটিং ড্রেজারের মাধ্যমে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসার কোনো অভিযোগ নেই।
রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সাহস এবং নৈতিক শক্তি রয়েছে লিখন খানের। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে দিঘীরপাড় ইউনিয়নের উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক ইউনিয়ন গঠনে তিনি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তার অনুসারীরা।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রার্থিতা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ—এই তিন বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচনী মাঠে লিখন খান শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকেরা।