
আপন সরদার, টঙ্গিবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় চান্দিনা ভিটির কর আদায়ে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ মেলায় ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল সাধারণ মানুষের। মেলার তিন দিনে মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার ২৬৪ টাকা কর আদায় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি সেবা মেলা উপলক্ষে জনগণকে এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের ভূমি সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়। মেলায় কর পরিশোধ, নামজারি আবেদন ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত পরামর্শ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংক্রান্ত তথ্য, ভূমি উন্নয়ন কর, ই-নামজারি, অনলাইন ভূমি সেবা এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
মেলার প্রতিদিনই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা ও প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হওয়া অনেকেই মেলায় এসে সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে চান্দিনা ভিটির কর পরিশোধে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
মেলায় সেবা নিতে আসা কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, আগে ভূমি সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হতো এবং সময়ও বেশি লাগতো। কিন্তু ভূমিসেবা মেলায় একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়ায় তাদের সময়, শ্রম ও অর্থ—সবই সাশ্রয় হয়েছে। দ্রুত ও সহজ পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পেরে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
অনেক সেবাগ্রহীতা আরও বলেন, ভূমি বিষয়ে অনেক মানুষ পর্যাপ্ত তথ্য না জানার কারণে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ধরনের মেলা মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক ভূমি সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার উদ্যোগ প্রশংসনীয় বলে তারা মন্তব্য করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওয়াজেদ ওয়াসীফ বলেন, “ভূমি সেবাকে জনগণের জন্য আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার কাজ করছে। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে মানুষকে এক জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও জনগণের সুবিধার্থে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও জানান, তিন দিনে বিপুল পরিমাণ কর আদায় এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এ ধরনের উদ্যোগের সফলতার প্রমাণ বহন করে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত সেবার প্রতি আস্থা ও আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মেলায় তিন দিনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর আদায় এবং ব্যাপক জনসাড়া পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়দের মতে, ভূমি সেবা সহজীকরণ ও জনগণের হয়রানি কমাতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা প্রয়োজন।