
টঙ্গিবাড়ীতে মারিয়ালয়-মোকামখোলা খাল খননে জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন দিগন্ত
আপন সরদার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার মারিয়ালয়-মোকামখোলা খালের প্রায় ৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ খাল খননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটিতে পলি জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত ছিল। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় আশপাশের ফসলি জমি ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হতো। খাল পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এ সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে খালে সারা বছর পানি সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় কৃষকরা সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বহুমুখী ফসল চাষের সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের বিকাশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় পরিবেশের উন্নয়নেও খালটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, খাল খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বৃদ্ধি পাবে, নৌ চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বাড়বে। ভবিষ্যতে এ খালকে কেন্দ্র করে পর্যটন ও বিনোদনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় ‘সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব উপায়ে খননকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মোয়াজ্জেম জানান, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে খালটিকে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মারিয়ালয়-মোকামখোলা খাল খনন প্রকল্প শুধু একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এটি এলাকার কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনজীবনের সার্বিক উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে।