
ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান, জেলা প্রশাসকের মানবিক উদ্যোগ
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিন-সংলগ্ন স্থান থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া এক কন্যা নবজাতকের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন।
গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাস্টবিনের পাশে নবজাতকটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শুধু চিকিৎসাই নয়, নবজাতকের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে।
এ বিষয়ে গত ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উদ্ধার হওয়া নবজাতকের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তার বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে ৯ জুলাই জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের মতামত ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।
বোর্ডের সদস্যদের সুপারিশ, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ বিবেচনা করে এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা জনাব রবিউল ইসলাম ও সুমাইয়া আক্তার দম্পতির নিকট নবজাতকের বৈধ অভিভাবকত্ব প্রদান করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগ একটি অসহায় শিশুর নিরাপদ ও সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু অধিকার সংরক্ষণ এবং কল্যাণে সরকারের দায়িত্বশীল ও মানবিক অঙ্গীকারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।