
টঙ্গীবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধের বাবার কবরের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ, বিচারের আকুতি
টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি: স্ত্রী মারা গেছেন, ছেলে থাকেন প্রবাসে, আর মেয়েরা সংসার করছেন স্বামীর বাড়িতে। জীবনের শেষ সময়ে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর মটুকপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে একাই দিন কাটছে বৃদ্ধ আব্দুল মতিন মোল্লার। কিন্তু সেই বাড়িতেও এখন যেন তাঁর শান্তি নেই। দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এবার তাঁর প্রয়াত বাবার কবরের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে। নিজের বাড়ি ও বাবার কবর রক্ষায় এখন অসহায় এই বৃদ্ধের একটাই আকুতি—তিনি যেন ন্যায়বিচার পান।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের মটুকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল মতিন মোল্লা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুল মতিন মোল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী সেলিনা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মতিন মোল্লা সিদ্ধেশ্বরী বাজারে তাঁর চায়ের দোকানে ব্যবসার কাজে গেলে সেলিনা বেগম লোকজন নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির এক পাশে থাকা তাঁর বাবার কবরের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃদ্ধ আব্দুল মতিন মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে এই বাড়িতে আমি একাই থাকি। আমার ছেলে বিদেশে থাকে, মেয়েরা তাদের স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাড়িতে আমি একা থাকি বলে প্রতিবেশী সেলিনা বেগম আমার বাড়ি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা মারা যাওয়ার পর এই বাড়ির এক পাশে তাঁকে কবর দিয়েছি। সেই কবরের দেয়ালও ভেঙে ফেলা হয়েছে। একজন মানুষের কাছে তাঁর বাবার কবর কতটা আবেগের, তা হয়তো সবাই বুঝবেন না। বাবার স্মৃতিটুকু নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু আজ সেই কবরও নিরাপদ নয়। এর আগেও আমার টয়লেট ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়।”
নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার মেয়েরা আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি মেয়ের জামাইয়ের সংসারে গিয়ে থাকতে চাই না। নিজের বাড়িতে নিজের মতো করে বাকি জীবনটা কাটাতে চাই। বয়স হয়েছে, এখন আর কারও সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার শক্তি নেই। শুধু চাই, আমার বাড়ি ও বাবার কবর যেন রক্ষা পায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সেলিনা বেগম বলেন, মতিন মোল্লার বাবার কবর যে জায়গায় রয়েছে, জমি পরিমাপের পর সেটি তাঁদের অংশে পড়েছে। তাঁরা বারবার জায়গাটি ছেড়ে দিতে বললেও তিনি তা ছাড়ছেন না।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, “এখনো এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই বাবার কবরের দেয়াল ভাঙচুরের এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও জমির প্রকৃত মালিকানা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়টি এখনো বাকি। বৃদ্ধ আব্দুল মতিন মোল্লার প্রত্যাশা, তাঁর বাবার কবর ও বসতভিটা নিয়ে চলমান বিরোধের অবসান হবে এবং তিনি নিজের বাড়িতে নিরাপদে বাকি জীবন কাটাতে পারবেন।