
রিয়াদ হোসাইন নিজেস্ব প্রতিনিধি: গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে ছায়াহীন কাঁচা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন মুন্সিগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষ। তাদের যাতায়াতের পথকে ছায়াময় ও আরামদায়ক করতে সড়কের দুই পাশে দেড় হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিক্রমপুর মানব সেবা ফাউন্ডেশন’।
‘সবুজ বনায়ন, ছায়াপথের রূপায়ণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টায় সংগঠনটির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত ‘ছায়াপথ-৮ ও ৯’ প্রকল্পের আওতায় মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নের চরবেহেরপাড়া এবং টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের কাইক্কাটি এলাকার দুটি কাঁচা সড়কের দুই পাশে এসব চারা রোপণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া কাঁচা সড়কগুলোতে তেমন কোনো গাছপালা নেই। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড রোদ ও তাপদাহের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল করতে হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
সংগঠনের সদস্য সালাউদ্দিন মোল্লা বলেন, “মুন্সিগঞ্জের দক্ষিণাঞ্চলের চর এলাকার মানুষের চলাচলের পথকে ছায়াযুক্ত করার লক্ষ্যেই আমাদের এই কর্মসূচি। আমরা চাই ভবিষ্যতে এসব সড়ক সবুজে ঘেরা ছায়াময় পথে পরিণত হোক, যাতে মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারে।”
বিক্রমপুর মানব সেবা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হাসান জানান, ২০১৮ সাল থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ‘ছায়াপথ’ কর্মসূচি অন্যতম।তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯টি কাঁচা ও পাকা সড়কের পাশে আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। শুধু চারা রোপণ করেই আমরা দায়িত্ব শেষ করি না; গাছগুলো সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য নিয়মিত তিন থেকে চার মাস পরিচর্যা ও তদারকি করা হয়।”
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য জসিম মোল্যা, যুবায়ের শিকদার, রাকিব হাসান, মানিক শেখ, সেলিম আহমেদ ফাহিম, মেহেদী খাঁন, নাইমুর ইসলাম, রিফাত হোসেন, মো. রাফি, বাবু খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পথচারীদের জন্য ছায়াময় পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, কয়েক বছরের মধ্যেই এসব সড়ক সবুজ গাছের ছায়ায় আচ্ছাদিত হয়ে উঠবে এবং চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।