
টঙ্গীবাড়ীতে পুকুর থেকে এক বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ১১টি ড্রেজার পাইপ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের আপরকাঠি গ্রামে প্রায় এক বছর আগে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যাওয়া ১৪টি ড্রেজার পাইপের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাইপগুলোর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় মালিককে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তবে ঘটনার এক বছর পর অধিকাংশ পাইপ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কবির খান ড্রেজিং কাজের জন্য ড্রেজার পাইপ সহ ড্রেজার মেশিন ভাড়া নিয়েছিলেন। কাজ শেষে পাইপগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হলেও একপর্যায়ে সেখান থেকে ১৪ টি পাইপ নিখোঁজ হয়ে যায়। পাইপ হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় অনুসন্ধান চালান। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পাইপগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পাইপগুলো উদ্ধার না হওয়ায় কবির খানকে ভাড়া নেওয়া পাইপের মালিকের কাছে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন আলোচনা চললেও হারিয়ে যাওয়া পাইপের রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে বুধবার (১ জুলাই) উপজেলার আপরকাঠি গ্রামের খায়ের বেপারীর বাড়ির পাশের একটি পুকুরে স্থানীয়দের নজরে আসে ড্রেজার পাইপ সদৃশ কিছু বস্তু। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন এবং অনুসন্ধান শুরু করেন।
একপর্যায়ে পুকুর থেকে হারিয়ে যাওয়া ১৪টি পাইপের মধ্যে ১১টি উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন পানির নিচে ও কাদামাটির মধ্যে থাকায় পাইপগুলো আংশিকভাবে ঢেকে ছিল। উদ্ধার হওয়া পাইপগুলো শনাক্ত করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এগুলোই এক বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ড্রেজার পাইপ।
তবে এখনো ৩টি পাইপের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেগুলো উদ্ধারে স্থানীয়রা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এক বছর পর হারানো পাইপের অধিকাংশ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে পাইপগুলো পুকুরে গেল এবং কারা এগুলো সেখানে ফেলে রেখেছিল। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর হারানো পাইপের বেশিরভাগ ফিরে পাওয়ায় কবির খান স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে বাকি ৩টি পাইপ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবী জানিয়েছেন তিনি।