
নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জ:
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সড়কের পাশে পড়ে থাকা এক মিশুকচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় ডাম্প ট্রাকের চালক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চালককে গ্রেপ্তার করেছে সিরাজদিখান থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের লতব্দী এলাকায় ফজলু চেয়ারম্যানের প্রকল্পের সামনে পাকা রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের একটি পা ভাঙা এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ জানতে পারে, নিহত ব্যক্তি নুরুল ইসলাম (৬৫)। তিনি সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের চর গুলগুলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে এবং পেশায় মিশুকচালক ছিলেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ১১ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে কেয়াইন ইউনিয়নের চালতিপাড়া আন্ডারপাস এলাকায় নুরুল ইসলামের চালানো মিশুকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ডাম্প ট্রাকের চালক হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে লতব্দী এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের মাধ্যমে তথ্য পায় পুলিশ।
ঘটনার পর পুলিশ নুরুল ইসলামের ব্যবহৃত মিশুকটি উদ্ধার করে হাসাড়া হাইওয়ে থানায় সংরক্ষণ করে। এরপর সিরাজদিখান থানার এসআই রুবেল শিকদার, এসআই রাকিবুল ইসলাম ও এএসআই শরিফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত দল স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ডাম্প ট্রাক চালক ইয়াসিন শেখ (২০)-কে সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে কুচিয়ামোড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৪৩১৪ নম্বরের ডাম্প ট্রাকটি লতব্দী ইউনিয়নের ইকো সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সামনে থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানায় সড়ক পরিবহন আইন এবং দণ্ডবিধির ২০১ ধারাসহ প্রাসঙ্গিক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।