
শাহবাগে উদ্ধার অজ্ঞাত মরদেহটি টঙ্গীবাড়ীর নিখোঁজ রেদওয়ানার নয়
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা দ্বিপাড়া এলাকার নিখোঁজ তরুণী রেদওয়ানা আক্তার (১৮) হত্যার শিকার হয়েছেন এবং ঢাকার শাহবাগে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহটি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে নিখোঁজ রেদওয়ানার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিতভাবে অস্বীকার করেছেন।
বিক্রমপুর টাইমসের সদস্যরা রেদওয়ানা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহবাগ থানায় গিয়ে সেখানে থাকা অজ্ঞাতনামা মৃত নারীর মরদেহ দেখে নিশ্চিত হয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি রেদওয়ানা আক্তারের নয়।
শাহবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী ওই তরুণীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর ১৬৮, তারিখ ১৩ আগস্ট ২০২৬।
পুলিশ জানায়, মৃতার পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসলেও কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে মৃতার নাম-ঠিকানা ও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে গত ১৩ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা দ্বিপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেদওয়ানা আক্তার (১৮)। তার স্বামী অজয় সরকার (২২), ধর্ম পরিবর্তনের পর যার নাম রায়হান ইসলাম, তিনিও একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে রেদওয়ানা ও রায়হানের পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের হাতিমাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পরিবারের দাবি, গত ১৩ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে রেদওয়ানা তার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বেতকা চৌরাস্তায় আসেন। এ সময় তার মা তাকে রান্না করা গরুর মাংস দেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে রায়হান একটি মিশুক নিয়ে এসে রেদওয়ানাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান। এরপর থেকেই দুজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, রেদওয়ানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তার মা হাতিমাড়ার ভাড়া বাসায় গিয়ে ঘরটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করে রান্না করা গরুর মাংস পড়ে থাকতে এবং রেদওয়ানার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় রেদওয়ানার মা মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ দম্পতির সন্ধানের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ০১৮১৮৮৪২৯৩১ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর মধ্যে শাহবাগ থানার পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তে সহায়তা চেয়ে তথ্য প্রকাশ করা হলে মুন্সীগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ধারণা করতে থাকেন, শাহবাগে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি হয়তো নিখোঁজ রেদওয়ানার।
তবে রেদওয়ানার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে এবং তাদের উপস্থিতিতে শাহবাগ থানায় গিয়ে অজ্ঞাতনামা মরদেহটি দেখার পর এ ধারণার সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি দেখে নিশ্চিত করেছেন, সেটি রেদওয়ানা আক্তার নন।
ফলে শাহবাগে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা মরদেহের সঙ্গে টঙ্গীবাড়ীর নিখোঁজ রেদওয়ানা আক্তারের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘নিখোঁজ রেদওয়ানার মরদেহ উদ্ধার’ সংক্রান্ত তথ্যকে তাই গুজব হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে রেদওয়ানা ও তার স্বামী রায়হান ইসলাম বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, তারা কেন নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাদের নিখোঁজের পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, এসব বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিখোঁজ দম্পতির সন্ধান এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।