
নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের পর হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।
শোকজের নির্দেশ পাওয়া চিকিৎসকেরা হলেন হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন) ডা. অনিরুদ্ধ মন্ডল এবং বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ড্যাবের জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাঈম খান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে বসে রোগীদের বাইরের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দেওয়ার পাশাপাশি বহিরাগত ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগে ওই দুই চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশ্রাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত মানু, সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, পৌরসভার প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন। সভা শেষে তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের নতুন ভবনের পেছনে থাকা বাসাবাড়ি এবং বিভিন্ন কক্ষ ও বারান্দা থেকে ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ঘুরে দেখেন তিনি। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতাল এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমও পরিচালনা করেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখার একপর্যায়ে দুই রোগী সংসদ সদস্যের কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁদের মধ্যে একজন নারী রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার এক চিকিৎসক তাঁকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চেম্বারের ভিজিটিং কার্ড দেন এবং সেখানে চিকিৎসা নিতে যেতে বলেন।
অন্য এক রোগী হাসপাতালের ১২২ নম্বর কক্ষে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে গেলে তাঁর হাতেও একটি ভিজিটিং কার্ড দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই রোগীকে বলা হয়, হাসপাতালের সামনের একটি ক্লিনিকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর সংসদ সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ১২২ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে তিনি এক নারীকে ঝাড়ু দিতে দেখতে পান। ওই নারীর পরিচয় এবং সরকারি হাসপাতালে কাজ করার বৈধতা সম্পর্কে জানতে চান তিনি। জবাবে ওই নারী জানান, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁদের দুজনকে সেখানে কাজের জন্য নিয়োগ দিয়েছেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের অন্য চিকিৎসক কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর বিষয়ে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কোনোভাবেই বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো যাবে না। হাসপাতালের ভেতরে কোনো ধরনের দালালচক্রের কার্যক্রমও বরদাস্ত করা হবে না।
এসব অভিযোগের পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন সংসদ সদস্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।