
গাজী মাহমুদ পারভেজ:- মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের চার দিন পর মেঘনা নদীর শাখা ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের পূর্ব পাশে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত হালিমা আক্তার উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মো. মহসিন মিয়ার মেয়ে এবং ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের ইমন মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নদীতে অজ্ঞাত এক তরুণীর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে গজারিয়া নৌ-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং লোকমুখে খবর পেয়ে স্বজনরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহতের পিতা মহসিন মিয়া জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে হালিমার বিয়ে হয়। তবে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কলহ ও বনিবনা না হওয়ায় গত দুই মাস ধরে সে বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছিল। গত মঙ্গলবার বড় মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলেও সেখানে পৌঁছেনি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে শুক্রবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে হালিমাকে শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে গজারিয়া নৌ-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে নিহতের ভগ্নিপতি মরদেহ শনাক্ত করেছেন।”
তবে এ ঘটনায় নদীপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নৌ-পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, গজারিয়া অংশের নদীপথে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক চোরাচালান, ছিনতাই, অবৈধ কারবার ও নানা অপরাধ সংঘটিত হলেও নৌ-পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব কম দেখা যায়। নিয়মিত টহল ও কার্যকর নজরদারির অভাবে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা বলছেন, নদীপথে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং সন্দেহজনক চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা হালিমা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।