
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকায় হালিমা আক্তার (১৯) নামে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মুন্সীগঞ্জ।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
রবিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে অভিযুক্ত জামাল হোসেনের সঙ্গে নিহত হালিমা আক্তারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেন। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় অভিযুক্তরা হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পিবিআই জানায়, ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতরে বসে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকাযোগে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে হালিমার পরনের পোশাক ব্যবহার করে তার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআই আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে