
নিজস্ব প্রতিবেদন
মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি ও তরুণদের খেলাধুলামুখী করতে মুন্সীগঞ্জের শিলই ইউনিয়নের বেহেরপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। ‘মাদককে না বলি, খেলাধুলায় মনোযোগ দিই’—এই বার্তাকে সামনে রেখে আয়োজিত ম্যাচে চরবাংলাবাজারকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চরশিলই ফুটবল দল।
বেহেরপাড়া গ্রামের মাঠে অনুষ্ঠিত এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠের চারপাশে জড়ো হন শিশু-কিশোর, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী দর্শক। দুই দলের সমর্থকদের করতালি ও উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ পরিণত হয় প্রাণবন্ত এক মিলনমেলায়।
খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে একে অপরকে চাপে রাখার চেষ্টা করে। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত চরশিলইয়ের একটি সফল আক্রমণ থেকে আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে চরবাংলাবাজার। তবে চরশিলইয়ের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় আর গোল করতে পারেনি তারা।
নির্ধারিত সময়ের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ১-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় চরশিলইয়ের। বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপভোগ করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মাঠে উপস্থিত দর্শকরাও।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামীম মোল্লা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কামারখাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নজরুল মোল্লা এবং দিঘীরপাড় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার খোকন হালদার। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি শামীম মোল্লা বলেন, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে হলে তাদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাঠে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে উঠবে।
বিশেষ অতিথি নজরুল মোল্লা বলেন, এলাকার তরুণদের জন্য খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করা সময়ের দাবি। নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে।
অন্য বিশেষ অতিথি খোকন হালদার বলেন, খেলাধুলা শুধু শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, এটি সামাজিক বন্ধনও শক্তিশালী করে। মাদকমুক্ত ও সুন্দর সমাজ গঠনে তরুণদের মাঠমুখী করার পাশাপাশি সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং তাদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করা। শুধু প্রতিযোগিতা নয়, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই ছিল এ আয়োজনের মূল বার্তা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গ্রামাঞ্চলে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন হলে তরুণদের অবসর সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে মাঠকেন্দ্রিক এসব আয়োজন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রিত করে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।
এক গোলের ব্যবধানে চরশিলইয়ের জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ হলেও আয়োজকদের মতে, এ আয়োজনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তরুণদের মাঝে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বেহেরপাড়ার মাঠে যে সামাজিক মিলনমেলা তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা।